Islamic Story
হযরত সুলায়মান (আ.)-এর ক্ষমতা: পশু-পাখির ভাষা ও জীনদের ওপর কর্তৃত্বের বিস্ময়কর ইতিহাস
Can Prophet Sulayman change your heart today? Discover gratitude, wisdom, and humble leadership in a Quran-based story that stirs reflection and strengthens f.
গল্পের শিক্ষা
প্রচুর ক্ষমতা ও সম্পদের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও সর্বদা আল্লাহর প্রতি বিনীত ও কৃতজ্ঞ থাকা উচিত এবং বিশ্বাস করা উচিত যে সমস্ত শক্তির উৎস একমাত্র মহান আল্লাহ।
Beginning
হযরত সুলায়মান (আ.)-এর জীবন ইতিহাস মানবজাতির জন্য এক অতুলনীয় শিক্ষা। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে সূরা আন-নামল (২৭:১৫-৪৪), সূরা সাবা (৩৪:১২-১৪) এবং সূরা সোয়াদ (৩৮:৩০-৪০)-এ তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা, মোজেজা এবং আল্লাহর প্রতি তাঁর গভীর আনুগত্যের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন সার্বভৌমত্ব দান করেছিলেন যা তাঁর আগে বা পরে আর কাউকে দেওয়া হয়নি।
হাফিজ ইবনে কাসির তাঁর 'কাসাসুল আম্বিয়া' গ্রন্থে সুলায়মান (আ.)-এর রাজত্বকে নবুওয়াতী ইনসাফ ও আল্লাহর প্রতি পরম কৃতজ্ঞতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুলায়মান (আ.) ছিলেন নবী দাউদ (আ.)-এর পুত্র। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি কেবল বিশাল সাম্রাজ্যই পাননি, বরং লাভ করেছিলেন প্রজ্ঞা ও বিচারবুদ্ধি।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিল এবং বলেছিল: হে লোকসকল! আমাদের পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের সবকিছু দেওয়া হয়েছে। এটা অবশ্যই এক সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।' (সূরা আন-নামল: ১৬)।
এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, সুলায়মান (আ.) তাঁর সকল ক্ষমতাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পরীক্ষা হিসেবে দেখতেন। তিনি কখনোই নিজের কৃতিত্ব জাহির করতেন না, বরং সর্বদা বলতেন, 'আলহামদুলিল্লাহ' (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)। সুলায়মান (আ.)-এর অন্যতম বিশেষ ক্ষমতা ছিল পশুপাখি এবং জিন জাতির ওপর নিয়ন্ত্রণ।
আল্লাহর নির্দেশে বাতাসও তাঁর আজ্ঞাবহ ছিল। তিনি যখন তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে যাত্রা করতেন, তখন তাতে মানুষ, জিন এবং পক্ষীকুলের সমন্বয় থাকত। একবার তিনি যখন তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে একটি পিঁপড়াদের উপত্যকার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একটি প্রধান পিঁপড়ার সতর্কবার্তা তাঁর কানে পৌঁছেছিল।
পিঁপড়াটি তার কওমকে বলছিল, 'হে পিঁপড়ারা!
The Test
তোমরা তোমাদের ঘরে প্রবেশ করো যেন সুলায়মান এবং তার বাহিনী তোমাদের অজান্তে পিষ্ট করে না ফেলে।' (সূরা আন-নামল: ১৮)। সুলায়মান (আ.) সেই ক্ষুদ্রতম প্রাণীর কথা বুঝতে পেরে দম্ভ করেননি। বরং তিনি মুচকি হাসলেন এবং আল্লাহর কাছে দুআ করলেন: 'হে আমার পালনকর্তা! আমাকে সামর্থ্য দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি যা তুমি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দান করেছ এবং আমি যেন এমন নেক আমল করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো।' (সূরা আন-নামল: ১৯)। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, একজন মুমিন শাসক কেবল উচ্চবিত্তের নয়, বরং সৃষ্টিজগতের ক্ষুদ্রতম জীবের নিরাপত্তার ব্যাপারেও সচেতন থাকেন। সুলায়মান (আ.)-এর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শৃঙ্খলার এক আশ্চর্যজনক উদাহরণ হলো রানী বিলকিসের ঘটনা।
সুলায়মান (আ.) তাঁর বাহিনীর পাখিদের তদারকি করতে গিয়ে লক্ষ্য করলেন যে 'হুদহুদ' পাখিটি নেই। তিনি কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষায় আপসহীন ছিলেন এবং ঘোষণা করলেন যে, উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারলে তিনি তাকে শাস্তি দেবেন। কিছুক্ষণ পর হুদহুদ ফিরে এসে সাবা রাজ্যের সংবাদ দিল।
সে জানাল, সেখানে এক নারী বিশাল সিংহাসনে আসীন এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যের উপাসনা করে। সুলায়মান (আ.) কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রানীর কাছে একটি দাওয়াহ পত্র পাঠালেন। পত্রের শুরুতে ছিল 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'।
তিনি রানীকে উদ্ধত না হয়ে আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হিসেবে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিলেন। রানী বিলকিস অত্যন্ত বুদ্ধিমতী ছিলেন; তিনি প্রথমে সুলায়মান (আ.)-কে বশীভূত করার জন্য দামী উপঢৌকন পাঠালেন। কিন্তু সুলায়মান (আ.) সেই জাগতিক সম্পদের প্রলোভন ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, 'আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তোমরা যা দিয়েছ তার চেয়ে বহু শ্রেষ্ঠ।' (সূরা আন-নামল: ৩৬)।
এখানে তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ফুটে ওঠে। রানী বিলকিস যখন সুলায়মান (আ.)-এর দরবারে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন সুলায়মান (আ.) এক অলৌকিক প্রদর্শনের ইচ্ছা পোষণ করলেন। তিনি জানতে চাইলেন কে আগে রানীর সিংহাসনটি তাঁর কাছে নিয়ে আসতে পারবে।
এক শক্তিশালী জিন প্রস্তাব করল যে তিনি সুলায়মান (আ.) স্বস্থান থেকে উঠে দাঁড়ানোর আগেই তা নিয়ে আসবে। কিন্তু যাঁর কাছে কিতাবীয় জ্ঞান ছিল (আল্লাহর এক ওলী বা ফেরেশতা), তিনি বললেন, 'আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা এনে দেব।' (সূরা আন-নামল: ৪০)। চোখের পলকে সেই বিশাল রাজকীয় সিংহাসনটি উপস্থিত হতে দেখে সুলায়মান (আ.) আবারও বিনয়ের সাথে ঘোষণা করলেন, 'হাযা মিন ফাদলি রাব্বি' (এটি আমার রবের অনুগ্রহ)।
The Lesson
তিনি পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন রানী সত্য চিনতে পারেন কিনা। এরপর যখন রানী বিলকিস কাঁচের সুদৃশ্য মহলে প্রবেশ করলেন এবং সেটিকে পানি মনে করে পোশাক গুটিয়ে নিলেন, তখন সুলায়মান (আ.) তাঁকে বুঝিয়ে দিলেন যে এটি কাঁচের তৈরি স্বচ্ছ মেঝে। রানীর ভ্রম দূর হলো এবং তিনি উপলব্ধি করলেন যে বাহ্যিক চাকচিক্য যেমন মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তেমনি সূর্যের পূজা করাও একটি বিভ্রান্তি।
তিনি তৎক্ষণাৎ ঈমান আনলেন। সুলায়মান (আ.)-এর রাজত্বে জিন জাতি ছিল খুবই পরিশ্রমী। তারা তাঁর নির্দেশে বিশাল অট্টালিকা, প্রতিমূর্তি (তৎকালীন শরীয়ত অনুযায়ী), বিশালাকার পানির কুণ্ড ও ডেক তৈরি করত।
এই জিনদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল যাতে তারা অবাধ্যতা করতে না পারে। সূরা সাবায় বলা হয়েছে, জিনেরা মনে করত তারা অদৃশ্যের খবর রাখে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সুলায়মান (আ.)-এর মৃত্যুর মাধ্যমে তাদের এই মিথ্যা দাবি ধূলিসাৎ করে দেন।
ইবনে কাসির ও সহীহ তাফসীর অনুযায়ী, সুলায়মান (আ.) জিনদের দ্বারা বায়তুল মুকাদ্দাস বা ইবাদতগৃহের নির্মাণ কাজ করাচ্ছিলেন। এমন সময় তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে। তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে দণ্ডায়মান অবস্থায় আল্লাহর নির্দেশে ইন্তেকাল করেন।
দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পরও জিনেরা কাজ করতে থাকে এই ভেবে যে তিনি তাদের তদারকি করছেন। অবশেষে আল্লাহর নির্দেশিত একটি মাটির পোকা (উইপোকা) তাঁর লাঠিটি কুরে কুরে খেতে থাকে এবং লাঠিটি ভেঙে গেলে তাঁর পবিত্র দেহ মাটিতে পড়ে যায়। তখনই জিনেরা বুঝতে পারে যে তিনি অনেক আগেই ইন্তেকাল করেছেন।
এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, জিন বা কোনো সৃষ্টিই গায়েবি বা অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না (সূরা সাবা: ১৪)। সুলায়মান (আ.)-এর জীবন থেকে প্রধান তিনটি শিক্ষা হচ্ছে: ১.
মহান আল্লাহ যার প্রতি অনুগ্রহ করেন, তার দায়িত্ব হলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। ২. আধিপত্য মানুষকে অহংকারী করে তুললে বিপদ, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবহার করলে সাফল্য। ৩.
বিচার এবং ইনসাফের ক্ষেত্রে এমনকি পিঁপড়াদের অধিকারও বিবেচনা করা। তিনি এমন এক নবী ছিলেন যিনি একই সাথে ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ এবং কঠোর ইবাদতকারী বান্দা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর প্রতিটি কাজই ছিল তাওহীদের দাওয়াত এবং রিসালাতের প্রচার।
হযরত সুলায়মান (আ.)-এর জীবন ইতিহাস মানবজাতির জন্য এক অতুলনীয় শিক্ষা। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে সূরা আন-নামল (২৭:১৫-৪৪), সূরা সাবা (৩৪:১২-১৪) এবং সূরা সোয়াদ (৩৮:৩০-৪০)-এ তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা, মোজেজা এবং আল্লাহর প্রতি তাঁর গভীর আনুগত্যের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন সার্বভৌমত্ব দান করেছিলেন যা তাঁর আগে বা পরে আর কাউকে দেওয়া হয়নি।
হাফিজ ইবনে কাসির তাঁর 'কাসাসুল আম্বিয়া' গ্রন্থে সুলায়মান (আ.)-এর রাজত্বকে নবুওয়াতী ইনসাফ ও আল্লাহর প্রতি পরম কৃতজ্ঞতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুলায়মান (আ.) ছিলেন নবী দাউদ (আ.)-এর পুত্র। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি কেবল বিশাল সাম্রাজ্যই পাননি, বরং লাভ করেছিলেন প্রজ্ঞা ও বিচারবুদ্ধি।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিল এবং বলেছিল: হে লোকসকল! আমাদের পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের সবকিছু দেওয়া হয়েছে। এটা অবশ্যই এক সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।' (সূরা আন-নামল: ১৬)।
এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, সুলায়মান (আ.) তাঁর সকল ক্ষমতাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পরীক্ষা হিসেবে দেখতেন। তিনি কখনোই নিজের কৃতিত্ব জাহির করতেন না, বরং সর্বদা বলতেন, 'আলহামদুলিল্লাহ' (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)। সুলায়মান (আ.)-এর অন্যতম বিশেষ ক্ষমতা ছিল পশুপাখি এবং জিন জাতির ওপর নিয়ন্ত্রণ।
আল্লাহর নির্দেশে বাতাসও তাঁর আজ্ঞাবহ ছিল। তিনি যখন তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে যাত্রা করতেন, তখন তাতে মানুষ, জিন এবং পক্ষীকুলের সমন্বয় থাকত। একবার তিনি যখন তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে একটি পিঁপড়াদের উপত্যকার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একটি প্রধান পিঁপড়ার সতর্কবার্তা তাঁর কানে পৌঁছেছিল।
পিঁপড়াটি তার কওমকে বলছিল, 'হে পিঁপড়ারা!
The Test
তোমরা তোমাদের ঘরে প্রবেশ করো যেন সুলায়মান এবং তার বাহিনী তোমাদের অজান্তে পিষ্ট করে না ফেলে।' (সূরা আন-নামল: ১৮)। সুলায়মান (আ.) সেই ক্ষুদ্রতম প্রাণীর কথা বুঝতে পেরে দম্ভ করেননি। বরং তিনি মুচকি হাসলেন এবং আল্লাহর কাছে দুআ করলেন: 'হে আমার পালনকর্তা! আমাকে সামর্থ্য দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি যা তুমি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দান করেছ এবং আমি যেন এমন নেক আমল করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো।' (সূরা আন-নামল: ১৯)। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, একজন মুমিন শাসক কেবল উচ্চবিত্তের নয়, বরং সৃষ্টিজগতের ক্ষুদ্রতম জীবের নিরাপত্তার ব্যাপারেও সচেতন থাকেন। সুলায়মান (আ.)-এর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শৃঙ্খলার এক আশ্চর্যজনক উদাহরণ হলো রানী বিলকিসের ঘটনা।
সুলায়মান (আ.) তাঁর বাহিনীর পাখিদের তদারকি করতে গিয়ে লক্ষ্য করলেন যে 'হুদহুদ' পাখিটি নেই। তিনি কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষায় আপসহীন ছিলেন এবং ঘোষণা করলেন যে, উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারলে তিনি তাকে শাস্তি দেবেন। কিছুক্ষণ পর হুদহুদ ফিরে এসে সাবা রাজ্যের সংবাদ দিল।
সে জানাল, সেখানে এক নারী বিশাল সিংহাসনে আসীন এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যের উপাসনা করে। সুলায়মান (আ.) কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রানীর কাছে একটি দাওয়াহ পত্র পাঠালেন। পত্রের শুরুতে ছিল 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'।
তিনি রানীকে উদ্ধত না হয়ে আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হিসেবে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিলেন। রানী বিলকিস অত্যন্ত বুদ্ধিমতী ছিলেন; তিনি প্রথমে সুলায়মান (আ.)-কে বশীভূত করার জন্য দামী উপঢৌকন পাঠালেন। কিন্তু সুলায়মান (আ.) সেই জাগতিক সম্পদের প্রলোভন ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, 'আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তোমরা যা দিয়েছ তার চেয়ে বহু শ্রেষ্ঠ।' (সূরা আন-নামল: ৩৬)।
এখানে তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ফুটে ওঠে। রানী বিলকিস যখন সুলায়মান (আ.)-এর দরবারে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন সুলায়মান (আ.) এক অলৌকিক প্রদর্শনের ইচ্ছা পোষণ করলেন। তিনি জানতে চাইলেন কে আগে রানীর সিংহাসনটি তাঁর কাছে নিয়ে আসতে পারবে।
এক শক্তিশালী জিন প্রস্তাব করল যে তিনি সুলায়মান (আ.) স্বস্থান থেকে উঠে দাঁড়ানোর আগেই তা নিয়ে আসবে। কিন্তু যাঁর কাছে কিতাবীয় জ্ঞান ছিল (আল্লাহর এক ওলী বা ফেরেশতা), তিনি বললেন, 'আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা এনে দেব।' (সূরা আন-নামল: ৪০)। চোখের পলকে সেই বিশাল রাজকীয় সিংহাসনটি উপস্থিত হতে দেখে সুলায়মান (আ.) আবারও বিনয়ের সাথে ঘোষণা করলেন, 'হাযা মিন ফাদলি রাব্বি' (এটি আমার রবের অনুগ্রহ)।
The Lesson
তিনি পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন রানী সত্য চিনতে পারেন কিনা। এরপর যখন রানী বিলকিস কাঁচের সুদৃশ্য মহলে প্রবেশ করলেন এবং সেটিকে পানি মনে করে পোশাক গুটিয়ে নিলেন, তখন সুলায়মান (আ.) তাঁকে বুঝিয়ে দিলেন যে এটি কাঁচের তৈরি স্বচ্ছ মেঝে। রানীর ভ্রম দূর হলো এবং তিনি উপলব্ধি করলেন যে বাহ্যিক চাকচিক্য যেমন মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তেমনি সূর্যের পূজা করাও একটি বিভ্রান্তি।
তিনি তৎক্ষণাৎ ঈমান আনলেন। সুলায়মান (আ.)-এর রাজত্বে জিন জাতি ছিল খুবই পরিশ্রমী। তারা তাঁর নির্দেশে বিশাল অট্টালিকা, প্রতিমূর্তি (তৎকালীন শরীয়ত অনুযায়ী), বিশালাকার পানির কুণ্ড ও ডেক তৈরি করত।
এই জিনদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল যাতে তারা অবাধ্যতা করতে না পারে। সূরা সাবায় বলা হয়েছে, জিনেরা মনে করত তারা অদৃশ্যের খবর রাখে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সুলায়মান (আ.)-এর মৃত্যুর মাধ্যমে তাদের এই মিথ্যা দাবি ধূলিসাৎ করে দেন।
ইবনে কাসির ও সহীহ তাফসীর অনুযায়ী, সুলায়মান (আ.) জিনদের দ্বারা বায়তুল মুকাদ্দাস বা ইবাদতগৃহের নির্মাণ কাজ করাচ্ছিলেন। এমন সময় তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে। তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে দণ্ডায়মান অবস্থায় আল্লাহর নির্দেশে ইন্তেকাল করেন।
দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পরও জিনেরা কাজ করতে থাকে এই ভেবে যে তিনি তাদের তদারকি করছেন। অবশেষে আল্লাহর নির্দেশিত একটি মাটির পোকা (উইপোকা) তাঁর লাঠিটি কুরে কুরে খেতে থাকে এবং লাঠিটি ভেঙে গেলে তাঁর পবিত্র দেহ মাটিতে পড়ে যায়। তখনই জিনেরা বুঝতে পারে যে তিনি অনেক আগেই ইন্তেকাল করেছেন।
এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, জিন বা কোনো সৃষ্টিই গায়েবি বা অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না (সূরা সাবা: ১৪)। সুলায়মান (আ.)-এর জীবন থেকে প্রধান তিনটি শিক্ষা হচ্ছে: ১.
মহান আল্লাহ যার প্রতি অনুগ্রহ করেন, তার দায়িত্ব হলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। ২. আধিপত্য মানুষকে অহংকারী করে তুললে বিপদ, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবহার করলে সাফল্য। ৩.
বিচার এবং ইনসাফের ক্ষেত্রে এমনকি পিঁপড়াদের অধিকারও বিবেচনা করা। তিনি এমন এক নবী ছিলেন যিনি একই সাথে ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ এবং কঠোর ইবাদতকারী বান্দা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর প্রতিটি কাজই ছিল তাওহীদের দাওয়াত এবং রিসালাতের প্রচার।