Islamic Story
হযরত আইয়ুব (আ.)-এর ধৈর্য: কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েও আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস
Can Prophet Ayyub change your heart today? Discover steadfast patience during pain and gratitude after relief in a Quran-based story that stirs reflection and.
গল্পের শিক্ষা
বিপদে ধৈর্য ধারণ করা এবং সর্বদা আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। কঠিনতম রোগ বা অভাব অনটনেও অভিযোগ না করে কেবল আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলে তিনি অবশ্যই বান্দার কষ্ট লাঘব করেন এবং ধৈর্যের উত্তম প্রতিদান দুনিয়া ও আখেরাতে প্রদান করেন।
Beginning
আল্লাহ তাআলার মনোনীত নবী হযরত আইয়ুব (আঃ) ইসলামের ইতিহাসে সবর ও ধৈর্যের এক মহান ও মূর্ত প্রতীক। পবিত্র কুরআনের দুটি সূরা—সূরা আল-আম্বিয়া (২১:৮৩-৮৪) এবং সূরা সোয়াদ (৩৮:৪১-৪৪)-এ তাঁর জীবনের এই বিরল ও দীর্ঘ পরীক্ষার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। তাফসীরে ইবনে কাসীর এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তাআলা আইয়ুব (আঃ)-কে শুরুতে অপরিসীম নিয়ামত ও জাগতিক সম্পদে ভূষিত করেছিলেন।
তাঁর ছিল বিশাল ভূসম্পত্তি, অগাধ ধন-সম্পদ, হাজারে হাজার গবাদি পশু এবং বহু সংখ্যক সুসন্তান। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের অত্যন্ত সম্মানিত, সফল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার ঈমান ও আত্মিক দৃঢ়তা বিশ্ববাসীর সামনে এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে পেশ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
তাকে এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করা হলো। একের পর এক বিপর্যয় তাঁর জীবনে নেমে আসতে শুরু করল। প্রথমে তাঁর সমস্ত ধন-সম্পদ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ধ্বংস হয়ে গেল।
এরপর তাঁর বিশাল গবাদি পশুর পাল মারা গেল এবং সবুজ বাগানসমূহ সম্পূর্ণ উজাড় হয়ে গেল। এরপর আরও এক হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ পরীক্ষা হিসেবে তাঁর সমস্ত সন্তান মৃত্যুবরণ করলেন। তিনি নিঃস্ব ও সন্তানহীন হয়ে পড়লেন।
The Test
সবশেষে তাঁর নিজের শরীরে এক মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি ভর করল। বর্ণিত আছে যে, তাঁর শরীরের চামড়া ও মাংস এক অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টদায়ক চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এই দীর্ঘ কঠিন সময়ে কেবল তাঁর কলব বা কালব এবং জিহ্বা নিরাপদ ছিল, যা দিয়ে তিনি মুহূর্তের জন্যও বিরতি না দিয়ে দিনরাত আল্লাহর যিকির পাঠ করতেন।
এই কঠিনতম সময়ে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা সম্ভাব্য সংক্রামক ব্যাধির আশঙ্কায় তাঁকে ত্যাগ করে এলাকা থেকে দূরে চলে যায়। কেবল তাঁর মহীয়সী ও পুণ্যবতী স্ত্রী 'রাহমাত' (কারো কারো মতে)—যাকে ইবনে কাসীর অত্যন্ত সম্মানিত নারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন—তাঁর পাশে অবিচলভাবে অবস্থান করেন। তিনি মানুষের বাড়িতে কঠোর পরিশ্রমের কাজ করে নিজের নবীর তথা স্বামী আইয়ুব (আঃ)-এর সেবা ও খাবারের ব্যবস্থা করতেন।
দীর্ঘ আঠারো (১৮) বছর এই অসহ্য শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যেও আইয়ুব (আঃ) কখনও মহান আল্লাহর প্রতি সামান্যতম অভিযোগ বা অসন্তোষ প্রকাশ করেননি। তাঁর এই ধৈর্য ছিল ইতিহাসের পাতায় অতুলনীয়। যখন তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় রূপ ধারণ করল এবং তাঁর স্ত্রীও অসহায়ত্ব অনুভব করতে লাগলেন, তখন তিনি অত্যন্ত বিনীতভাবে আল্লাহর দয়ার দ্বারে ফরিয়াদ করলেন।
তার এই করুণ আর্তি পবিত্র কুরআনে এভাবে বর্ণিত হয়েছে, 'আমি কষ্টে পতিত হয়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।' (সূরা আল-আম্বিয়া: ৮৩)। লক্ষ্যণীয় যে, তিনি সরাসরি রোগমুক্তির নির্দেশাত্মক প্রার্থনা করেননি, বরং আল্লাহর দয়াকে সামনে এনে তাঁর নিজের অসহায়ত্বের কথা অত্যন্ত আদবের সাথে পেশ করেছেন। নবী আইয়ুব (আঃ) আরও বলেছিলেন যে, শয়তান তাকে শারীরিক কষ্ট ও মানসিক কষ্টের মাধ্যমে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে (সূরা সোয়াদ: ৪১)।
আল্লাহ তাআলা তাঁর এই দীর্ঘ ১৮ বছরের ধৈর্য ও নিখাদ ইখলাসে সন্তুষ্ট হলেন। কষ্টের মেঘ কেটে গিয়ে রহমতের সূর্য উদয় হলো। মহান আল্লাহ তখন তাকে নির্দেশ দিলেন, 'তোমার পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করো; এই তো গোসলের শীতল পানি ও পানীয়।' (সূরা সোয়াদ: ৪২)।
আল্লাহর হুকুমে তিনি যখন মাটিতে পদাঘাত করলেন, তখন সেখান থেকে একটি অলৌকিক স্বচ্ছ ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হলো। তিনি সেই শীতল পানিতে গোসল করলেন এবং সেই পানি পান করলেন। এর ফলে তাঁর দেহের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সমস্ত রোগ-ব্যাধি নিমিষেই সুস্থ হয়ে গেল।
তিনি অলৌকিকভাবে তাঁর পূর্বের ন্যায় উজ্জ্বল স্বাস্থ্য, কান্তি ও সৌন্দর্য ফিরে পেলেন। সাহীহ বুখারী ও ইবনে কাসীরের বর্ণনা মতে, তিনি যখন সুস্থ হয়ে বের হয়ে এলেন, তখন আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে তাঁর ওপর স্বর্ণের পঙ্গপাল বর্ষণ করতে লাগলেন। তিনি সেগুলো তাঁর কাপড়ে জমা করতে লাগলে আল্লাহ তাঁকে প্রশ্ন করেন যে, তাঁর কি এই সম্পদের প্রয়োজন আছে?
The Lesson
তিনি উত্তরে বলেন, 'হে আমার রব, আপনার বরকত থেকে আমি অমুখাপেক্ষী নই।' আল্লাহ তাআলা কেবল তাঁর স্বাস্থ্যই ফিরিয়ে দেননি বরং তাঁর পরিবার-পরিজনকে পুনরায় নতুন করে ফিরিয়ে দিলেন এবং তাদের সংখ্যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ করে দিলেন। এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত এবং পরবর্তী যুগের ইবাদতকারীদের জন্য এক মহা উপদেশ। কষ্টের দিনগুলোতে চরম অসুস্থ অবস্থায় আইয়ুব (আঃ) তাঁর স্ত্রীর কোনো একটি কথায় বা কাজে রাগান্বিত হয়ে কসম করেছিলেন যে, সুস্থ হলে তাকে ১০০টি বেত্রাঘাত করবেন।
কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর যখন তিনি তাঁর স্ত্রীর অসামান্য ত্যাগ ও সেবার কথা চিন্তা করলেন, তখন তিনি শপথ পূরণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর নেক বান্দার এই মানসিক কষ্ট দূর করতে কসম পূরণের একটি সহজ ও দয়াপূর্ণ পথ বাতলে দিলেন। আল্লাহ বললেন, 'তুমি তোমার হাতে এক মুষ্ঠি তৃণশলা (১০টি বা ১০০টি ঘাস) নাও এবং তা দিয়ে একবার আলতো করে আঘাত করো এবং তোমার শপথ ভঙ্গ করো না।' এটি ছিল দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ও তাঁর ধৈর্যশীলা স্ত্রীর প্রতি বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহ।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে আইয়ুব (আঃ) সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা করেছেন, 'নিশ্চয়ই আমি তাকে পেয়েছি ধৈর্যশীল। কতই না চমৎকার বান্দা সে!
সে ছিল আল্লাহ অভিমুখী।' (সূরা সোয়াদ: ৪৪)। আইয়ুব (আঃ)-এর এই মহিমান্বিত জীবনী আমাদের শিক্ষা দেয় যে, মানুষের জীবনে আপদ-বিপদ বা রোগ-ব্যাধি কেবল কোনো পাপের শাস্তি নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ঈমানের এক কঠিন পরীক্ষা বা উচ্চ মর্যাদা লাভের মাধ্যম হতে পারে। মুমিন ব্যক্তি তার জীবনের সবচেয়ে ঘোর অন্ধকার সময়েও যদি আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখে এবং অভিযোগ না করে ধৈর্য বা সবর করে, তবে চূড়ান্ত বিজয় ও ঐশী রহমত কেবল তারই জন্য অপেক্ষা করে।
এই কাহিনী মুসলিম উম্মাহর জন্য এক আলোকবর্তিকা, যা আমাদের শেখায় যে বিপদ যতই দীর্ঘস্থায়ী হোক না কেন, আল্লাহর দয়া তার চেয়েও বেশি প্রশস্ত। দুনিয়ার সব নিয়ামত আল্লাহর দান এবং তিনি তাঁর প্রজ্ঞায় যা নেন, তার চেয়ে অধিক ও শ্রেষ্ঠ কিছু সবরকারীদের প্রতিদান হিসেবে প্রদান করেন।
আল্লাহ তাআলার মনোনীত নবী হযরত আইয়ুব (আঃ) ইসলামের ইতিহাসে সবর ও ধৈর্যের এক মহান ও মূর্ত প্রতীক। পবিত্র কুরআনের দুটি সূরা—সূরা আল-আম্বিয়া (২১:৮৩-৮৪) এবং সূরা সোয়াদ (৩৮:৪১-৪৪)-এ তাঁর জীবনের এই বিরল ও দীর্ঘ পরীক্ষার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। তাফসীরে ইবনে কাসীর এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তাআলা আইয়ুব (আঃ)-কে শুরুতে অপরিসীম নিয়ামত ও জাগতিক সম্পদে ভূষিত করেছিলেন।
তাঁর ছিল বিশাল ভূসম্পত্তি, অগাধ ধন-সম্পদ, হাজারে হাজার গবাদি পশু এবং বহু সংখ্যক সুসন্তান। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের অত্যন্ত সম্মানিত, সফল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার ঈমান ও আত্মিক দৃঢ়তা বিশ্ববাসীর সামনে এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে পেশ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
তাকে এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করা হলো। একের পর এক বিপর্যয় তাঁর জীবনে নেমে আসতে শুরু করল। প্রথমে তাঁর সমস্ত ধন-সম্পদ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ধ্বংস হয়ে গেল।
এরপর তাঁর বিশাল গবাদি পশুর পাল মারা গেল এবং সবুজ বাগানসমূহ সম্পূর্ণ উজাড় হয়ে গেল। এরপর আরও এক হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ পরীক্ষা হিসেবে তাঁর সমস্ত সন্তান মৃত্যুবরণ করলেন। তিনি নিঃস্ব ও সন্তানহীন হয়ে পড়লেন।
The Test
সবশেষে তাঁর নিজের শরীরে এক মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি ভর করল। বর্ণিত আছে যে, তাঁর শরীরের চামড়া ও মাংস এক অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টদায়ক চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এই দীর্ঘ কঠিন সময়ে কেবল তাঁর কলব বা কালব এবং জিহ্বা নিরাপদ ছিল, যা দিয়ে তিনি মুহূর্তের জন্যও বিরতি না দিয়ে দিনরাত আল্লাহর যিকির পাঠ করতেন।
এই কঠিনতম সময়ে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা সম্ভাব্য সংক্রামক ব্যাধির আশঙ্কায় তাঁকে ত্যাগ করে এলাকা থেকে দূরে চলে যায়। কেবল তাঁর মহীয়সী ও পুণ্যবতী স্ত্রী 'রাহমাত' (কারো কারো মতে)—যাকে ইবনে কাসীর অত্যন্ত সম্মানিত নারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন—তাঁর পাশে অবিচলভাবে অবস্থান করেন। তিনি মানুষের বাড়িতে কঠোর পরিশ্রমের কাজ করে নিজের নবীর তথা স্বামী আইয়ুব (আঃ)-এর সেবা ও খাবারের ব্যবস্থা করতেন।
দীর্ঘ আঠারো (১৮) বছর এই অসহ্য শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যেও আইয়ুব (আঃ) কখনও মহান আল্লাহর প্রতি সামান্যতম অভিযোগ বা অসন্তোষ প্রকাশ করেননি। তাঁর এই ধৈর্য ছিল ইতিহাসের পাতায় অতুলনীয়। যখন তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় রূপ ধারণ করল এবং তাঁর স্ত্রীও অসহায়ত্ব অনুভব করতে লাগলেন, তখন তিনি অত্যন্ত বিনীতভাবে আল্লাহর দয়ার দ্বারে ফরিয়াদ করলেন।
তার এই করুণ আর্তি পবিত্র কুরআনে এভাবে বর্ণিত হয়েছে, 'আমি কষ্টে পতিত হয়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।' (সূরা আল-আম্বিয়া: ৮৩)। লক্ষ্যণীয় যে, তিনি সরাসরি রোগমুক্তির নির্দেশাত্মক প্রার্থনা করেননি, বরং আল্লাহর দয়াকে সামনে এনে তাঁর নিজের অসহায়ত্বের কথা অত্যন্ত আদবের সাথে পেশ করেছেন। নবী আইয়ুব (আঃ) আরও বলেছিলেন যে, শয়তান তাকে শারীরিক কষ্ট ও মানসিক কষ্টের মাধ্যমে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে (সূরা সোয়াদ: ৪১)।
আল্লাহ তাআলা তাঁর এই দীর্ঘ ১৮ বছরের ধৈর্য ও নিখাদ ইখলাসে সন্তুষ্ট হলেন। কষ্টের মেঘ কেটে গিয়ে রহমতের সূর্য উদয় হলো। মহান আল্লাহ তখন তাকে নির্দেশ দিলেন, 'তোমার পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করো; এই তো গোসলের শীতল পানি ও পানীয়।' (সূরা সোয়াদ: ৪২)।
আল্লাহর হুকুমে তিনি যখন মাটিতে পদাঘাত করলেন, তখন সেখান থেকে একটি অলৌকিক স্বচ্ছ ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হলো। তিনি সেই শীতল পানিতে গোসল করলেন এবং সেই পানি পান করলেন। এর ফলে তাঁর দেহের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সমস্ত রোগ-ব্যাধি নিমিষেই সুস্থ হয়ে গেল।
তিনি অলৌকিকভাবে তাঁর পূর্বের ন্যায় উজ্জ্বল স্বাস্থ্য, কান্তি ও সৌন্দর্য ফিরে পেলেন। সাহীহ বুখারী ও ইবনে কাসীরের বর্ণনা মতে, তিনি যখন সুস্থ হয়ে বের হয়ে এলেন, তখন আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে তাঁর ওপর স্বর্ণের পঙ্গপাল বর্ষণ করতে লাগলেন। তিনি সেগুলো তাঁর কাপড়ে জমা করতে লাগলে আল্লাহ তাঁকে প্রশ্ন করেন যে, তাঁর কি এই সম্পদের প্রয়োজন আছে?
The Lesson
তিনি উত্তরে বলেন, 'হে আমার রব, আপনার বরকত থেকে আমি অমুখাপেক্ষী নই।' আল্লাহ তাআলা কেবল তাঁর স্বাস্থ্যই ফিরিয়ে দেননি বরং তাঁর পরিবার-পরিজনকে পুনরায় নতুন করে ফিরিয়ে দিলেন এবং তাদের সংখ্যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ করে দিলেন। এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত এবং পরবর্তী যুগের ইবাদতকারীদের জন্য এক মহা উপদেশ। কষ্টের দিনগুলোতে চরম অসুস্থ অবস্থায় আইয়ুব (আঃ) তাঁর স্ত্রীর কোনো একটি কথায় বা কাজে রাগান্বিত হয়ে কসম করেছিলেন যে, সুস্থ হলে তাকে ১০০টি বেত্রাঘাত করবেন।
কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর যখন তিনি তাঁর স্ত্রীর অসামান্য ত্যাগ ও সেবার কথা চিন্তা করলেন, তখন তিনি শপথ পূরণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর নেক বান্দার এই মানসিক কষ্ট দূর করতে কসম পূরণের একটি সহজ ও দয়াপূর্ণ পথ বাতলে দিলেন। আল্লাহ বললেন, 'তুমি তোমার হাতে এক মুষ্ঠি তৃণশলা (১০টি বা ১০০টি ঘাস) নাও এবং তা দিয়ে একবার আলতো করে আঘাত করো এবং তোমার শপথ ভঙ্গ করো না।' এটি ছিল দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ও তাঁর ধৈর্যশীলা স্ত্রীর প্রতি বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহ।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে আইয়ুব (আঃ) সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা করেছেন, 'নিশ্চয়ই আমি তাকে পেয়েছি ধৈর্যশীল। কতই না চমৎকার বান্দা সে!
সে ছিল আল্লাহ অভিমুখী।' (সূরা সোয়াদ: ৪৪)। আইয়ুব (আঃ)-এর এই মহিমান্বিত জীবনী আমাদের শিক্ষা দেয় যে, মানুষের জীবনে আপদ-বিপদ বা রোগ-ব্যাধি কেবল কোনো পাপের শাস্তি নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ঈমানের এক কঠিন পরীক্ষা বা উচ্চ মর্যাদা লাভের মাধ্যম হতে পারে। মুমিন ব্যক্তি তার জীবনের সবচেয়ে ঘোর অন্ধকার সময়েও যদি আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখে এবং অভিযোগ না করে ধৈর্য বা সবর করে, তবে চূড়ান্ত বিজয় ও ঐশী রহমত কেবল তারই জন্য অপেক্ষা করে।
এই কাহিনী মুসলিম উম্মাহর জন্য এক আলোকবর্তিকা, যা আমাদের শেখায় যে বিপদ যতই দীর্ঘস্থায়ী হোক না কেন, আল্লাহর দয়া তার চেয়েও বেশি প্রশস্ত। দুনিয়ার সব নিয়ামত আল্লাহর দান এবং তিনি তাঁর প্রজ্ঞায় যা নেন, তার চেয়ে অধিক ও শ্রেষ্ঠ কিছু সবরকারীদের প্রতিদান হিসেবে প্রদান করেন।