Islamic Story
জুরাইজ ও অলৌকিক শিশু: ধৈর্য, ইবাদত এবং মিথ্যে অপবাদ থেকে মুক্তির শিক্ষা
Can The Devotion and Trial of Jurayj change your heart today? Discover faith, patience, and trust in Allah in a Quran-based story that stirs reflection and st.
গল্পের শিক্ষা
এই কাহিনী থেকে আমরা শিখতে পারি যে, নফল ইবাদতের চেয়ে পিতামাতার ডাকে সাড়া দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সাথে এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখলে তিনি মুমিন বান্দাকে কঠিন অপবাদ ও লাঞ্ছনা থেকে অলৌকিক উপায়ে রক্ষা করেন।
Beginning
প্রাচীন বনী ইসরাঈলের ইতিহাসে জুরাইজ নামক এক পরম ধার্মিক ও নির্জনপ্রিয় আবেদ বা ইবাদতগুজারের কাহিনী ইসলামি ঐতিহ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই কাহিনী আমাদের শিখিয়ে দেয় ইবাদত, মা-বাবার হক এবং আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাসের এক অনন্য শিক্ষা। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং জুরাইজের আমল ও তাঁর জীবনের কঠিন পরীক্ষার ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যা হাদীসের বিশুদ্ধতম গ্রন্থ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ২৪৮২, ৩৪৩৬) এবং সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৫৫০)-এ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খ্যাতিমান মুফাসসির হাফেজ ইবনে কাসীর রহ. তাঁর ইতিহাসের গ্রন্থেও এই ঘটনার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন। জুরাইজ ছিলেন একজন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ইবাদতকারী।
তিনি পার্থিব জীবনের যাবতীয় কোলাহল এবং বিলাসিতা পরিত্যাগ করে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকার জন্য জনবসতি থেকে দূরে একটি পাহাড়ে বা উঁচু স্থানে একটি ছোট্ট উপাসনালয় (গির্জা সদৃশ কক্ষ) নির্মাণ করেছিলেন। দিনের অধিকাংশ সময় তিনি সেখানে নামাজ, জিকির ও ধ্যানে অতিবাহিত করতেন। তাঁর এই একনিষ্ঠতা এবং সৎ চরিত্রের কথা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।
মানুষ তাঁকে একজন মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মান করত। একবার জুরাইজ যখন তাঁর উপাসনালয়ে নফল নামাজে রত ছিলেন, তখন তাঁর মা সেখানে উপস্থিত হলেন। মা নিচ থেকে তাঁকে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন, ‘হে জুরাইজ!’ জুরাইজ তখন এক গভীর সংকটে পড়ে গেলেন।
তিনি মনে মনে চিন্তা করলেন, ‘হে আমার রব!
The Test
একদিকে আমার জন্মদাত্রী মা আমাকে ডাকছেন, অন্যদিকে আমি আপনার ইবাদতে (নামাজে) নিমগ্ন। এখন আমি কী করব?’ তিনি মনে করলেন নামাজের গুরুত্ব বেশি, তাই তিনি নামাজ চালিয়ে গেলেন এবং মায়ের ডাকে সাড়া দিলেন না। পরদিন মা আবার আসলেন এবং ডাকার পর জুরাইজ একইভাবে নামাজকে প্রাধান্য দিলেন।
তৃতীয় দিনেও যখন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল, তখন মা অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হলেন। একজন আবেদ সন্তানের প্রতি মায়ের এই প্রত্যাখ্যান তাঁকে মানসিক কষ্ট দিল। তিনি তখন দুআ বা প্রার্থনা করলেন, ‘হে আল্লাহ!
জুরাইজ যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ব্যভিচারিণী বা পতিতার চেহারা না দেখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেন তার মৃত্যু না হয়।’ মা হয়তো জুরাইজকে ধ্বংস করতে চাননি, কিন্তু তাঁর অবহেলার কারণে অত্যন্ত আক্ষেপ থেকে এই কঠিন দুআটি করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, একজন পুণ্যবতী মায়ের দুআ আল্লাহর দরবারে সঙ্গে সঙ্গেই কবুল হয়ে গিয়েছিল। এদিকে জুরাইজের ইবাদত ও তাঁর সুখ্যাতি গ্রামের কিছু মানুষের মধ্যে ঈর্ষার সৃষ্টি করেছিল।
বনী ইসরাঈলের এক সুন্দরী ও পাপিষ্ঠা নারী বাজি ধরল যে, সে জুরাইজকে প্রলুব্ধ করবে এবং তাঁর চারিত্রিক নৈতিকতায় কালিমা লেপন করবে। সে সুসজ্জিত হয়ে জুরাইজের নির্জন উপাসনালয়ে উপস্থিত হলো এবং তাঁকে প্রলুব্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাল। কিন্তু জুরাইজ ছিলেন পর্বতসম ঈমানের অধিকারী; তিনি সেই নারীর প্ররোচনার দিকে একবারও নজর দিলেন না বরং আল্লাহর স্মরণে অবিচল রইলেন।
ব্যর্থ হয়ে সেই নারী ফিরে যাওয়ার সময় পাহাড়ের পাদদেশে এক মেষপালকের সংস্পর্শে এসে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো এবং গর্ভবতী হয়ে পড়ল। যথাসময় সেই নারী একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিল। যখন সমাজ তাকে সন্তানের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ করল, তখন সে নিজের অপরাধ লুকানোর জন্য এবং জুরাইজকে অপমানিত করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ তুলল যে, ‘এই সন্তানটি আবেদ জুরাইজের।’ এ সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল।
জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ল। তারা মনে করল, ধর্মের আড়ালে জুরাইজ একজন ভণ্ড। ক্ষিপ্ত জনতা কুঠার ও শাবল নিয়ে জুরাইজের উপাসনালয় আক্রমণ করল, তা গুঁড়িয়ে দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিল।
তারা জুরাইজের গলায় দড়ি বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনল এবং তাঁকে আঘাত করতে লাগল। জুরাইজ শান্তভাবে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কেন এমন করছ?’ তখন তারা তাঁকে সেই অপবাদের কথা বলল এবং সেই শিশুটিকে দেখিয়ে দিল। জুরাইজ তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারলেন যে, এটি হয়তো তাঁর মায়ের সেই বদদুআ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তাঁর ঈমান ছিল অটল।
The Lesson
তিনি বললেন, ‘আমাকে একটু সময় দাও, আমি নামাজ আদায় করব।’ তিনি সুন্দরভাবে ওজু করলেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করে আল্লাহর দরবারে সাহায্য চাইলেন। নামাজ শেষে তিনি সেই নবজাতক শিশুটির কাছে গেলেন এবং আল্লাহর কুদরতের ওপর ভরসা রেখে শিশুটির পেটে আঙুল দিয়ে একটি খোঁচা বা মৃদু আঘাত করে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে শিশু! বলো তোমার পিতা কে?’ তখনই এক অলৌকিক বা মুজিজাস্বরূপ ঘটনা ঘটল।
সেই দুগ্ধপোষ্য শিশুটি, যে সবেমাত্র জন্ম নিয়েছে, সে অত্যন্ত পরিষ্কার ও প্রাঞ্জল ভাষায় কথা বলে উঠল। সে সবার সামনে ঘোষণা করল, ‘আমার পিতা হলো অমুক মেষপালক।’ এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখে উপস্থিত জনতা স্তম্ভিত হয়ে গেল। তারা বুঝতে পারল যে জুরাইজ সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাঁরা এক বিশাল ভুল করেছেন।
তারা লজ্জিত হয়ে জুরাইজের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ল এবং ক্ষমা প্রার্থনা করল। তারা প্রস্তাব দিল, ‘হে জুরাইজ!
আমরা আপনার ঘরটি সোনা অথবা রুপা দিয়ে পুনরায় তৈরি করে দেব।’ দুনিয়াবিমুখ জুরাইজ হেসে বললেন, ‘না, আমার ঘরটি আগের মতো কাদা ও মাটি দিয়েই তৈরি করে দাও।’ গ্রামবাসী অতি দ্রুত তাঁর ঘরটি আগের মতো নির্মাণ করে দিল। এই কাহিনী থেকে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই। প্রথমত, মা-বাবার মর্যাদা ও অধিকার।
জুরাইজ নামাজে থাকলেও মা-বাবার ডাক শোনা এবং পরিস্থিতি বুঝে নামাজ সংক্ষিপ্ত করে তাঁদের ডাকে সাড়া দেওয়া অধিকতর শ্রেয় ছিল, কারণ নফল ইবাদতের চেয়ে মা-বাবার মর্যাদা অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। ইবনে কাসীর তাঁর বর্ণনায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। দ্বিতীয়ত, এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের বিপদে একা ছেড়ে দেন না।
যখন কেউ আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখে (তাওয়াক্কুল), তখন আল্লাহ এমন কুদরতি উপায়ে তাকে সাহায্য করেন যা মানুষের কল্পনার অতীত। তৃতীয়ত, সত্যকে সাময়িকভাবে ঢেকে রাখা সম্ভব হলেও তা একসময় আল্লাহর ইচ্ছায় প্রকাশিত হবেই। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের এই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাটি কিয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের জন্য সবর বা ধৈর্যের এক উজ্জ্বল আদর্শ হয়ে থাকবে।
প্রাচীন বনী ইসরাঈলের ইতিহাসে জুরাইজ নামক এক পরম ধার্মিক ও নির্জনপ্রিয় আবেদ বা ইবাদতগুজারের কাহিনী ইসলামি ঐতিহ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই কাহিনী আমাদের শিখিয়ে দেয় ইবাদত, মা-বাবার হক এবং আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাসের এক অনন্য শিক্ষা। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং জুরাইজের আমল ও তাঁর জীবনের কঠিন পরীক্ষার ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যা হাদীসের বিশুদ্ধতম গ্রন্থ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ২৪৮২, ৩৪৩৬) এবং সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৫৫০)-এ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খ্যাতিমান মুফাসসির হাফেজ ইবনে কাসীর রহ. তাঁর ইতিহাসের গ্রন্থেও এই ঘটনার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন। জুরাইজ ছিলেন একজন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ইবাদতকারী।
তিনি পার্থিব জীবনের যাবতীয় কোলাহল এবং বিলাসিতা পরিত্যাগ করে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকার জন্য জনবসতি থেকে দূরে একটি পাহাড়ে বা উঁচু স্থানে একটি ছোট্ট উপাসনালয় (গির্জা সদৃশ কক্ষ) নির্মাণ করেছিলেন। দিনের অধিকাংশ সময় তিনি সেখানে নামাজ, জিকির ও ধ্যানে অতিবাহিত করতেন। তাঁর এই একনিষ্ঠতা এবং সৎ চরিত্রের কথা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।
মানুষ তাঁকে একজন মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মান করত। একবার জুরাইজ যখন তাঁর উপাসনালয়ে নফল নামাজে রত ছিলেন, তখন তাঁর মা সেখানে উপস্থিত হলেন। মা নিচ থেকে তাঁকে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন, ‘হে জুরাইজ!’ জুরাইজ তখন এক গভীর সংকটে পড়ে গেলেন।
তিনি মনে মনে চিন্তা করলেন, ‘হে আমার রব!
The Test
একদিকে আমার জন্মদাত্রী মা আমাকে ডাকছেন, অন্যদিকে আমি আপনার ইবাদতে (নামাজে) নিমগ্ন। এখন আমি কী করব?’ তিনি মনে করলেন নামাজের গুরুত্ব বেশি, তাই তিনি নামাজ চালিয়ে গেলেন এবং মায়ের ডাকে সাড়া দিলেন না। পরদিন মা আবার আসলেন এবং ডাকার পর জুরাইজ একইভাবে নামাজকে প্রাধান্য দিলেন।
তৃতীয় দিনেও যখন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল, তখন মা অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হলেন। একজন আবেদ সন্তানের প্রতি মায়ের এই প্রত্যাখ্যান তাঁকে মানসিক কষ্ট দিল। তিনি তখন দুআ বা প্রার্থনা করলেন, ‘হে আল্লাহ!
জুরাইজ যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ব্যভিচারিণী বা পতিতার চেহারা না দেখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেন তার মৃত্যু না হয়।’ মা হয়তো জুরাইজকে ধ্বংস করতে চাননি, কিন্তু তাঁর অবহেলার কারণে অত্যন্ত আক্ষেপ থেকে এই কঠিন দুআটি করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, একজন পুণ্যবতী মায়ের দুআ আল্লাহর দরবারে সঙ্গে সঙ্গেই কবুল হয়ে গিয়েছিল। এদিকে জুরাইজের ইবাদত ও তাঁর সুখ্যাতি গ্রামের কিছু মানুষের মধ্যে ঈর্ষার সৃষ্টি করেছিল।
বনী ইসরাঈলের এক সুন্দরী ও পাপিষ্ঠা নারী বাজি ধরল যে, সে জুরাইজকে প্রলুব্ধ করবে এবং তাঁর চারিত্রিক নৈতিকতায় কালিমা লেপন করবে। সে সুসজ্জিত হয়ে জুরাইজের নির্জন উপাসনালয়ে উপস্থিত হলো এবং তাঁকে প্রলুব্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাল। কিন্তু জুরাইজ ছিলেন পর্বতসম ঈমানের অধিকারী; তিনি সেই নারীর প্ররোচনার দিকে একবারও নজর দিলেন না বরং আল্লাহর স্মরণে অবিচল রইলেন।
ব্যর্থ হয়ে সেই নারী ফিরে যাওয়ার সময় পাহাড়ের পাদদেশে এক মেষপালকের সংস্পর্শে এসে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো এবং গর্ভবতী হয়ে পড়ল। যথাসময় সেই নারী একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিল। যখন সমাজ তাকে সন্তানের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ করল, তখন সে নিজের অপরাধ লুকানোর জন্য এবং জুরাইজকে অপমানিত করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ তুলল যে, ‘এই সন্তানটি আবেদ জুরাইজের।’ এ সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল।
জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ল। তারা মনে করল, ধর্মের আড়ালে জুরাইজ একজন ভণ্ড। ক্ষিপ্ত জনতা কুঠার ও শাবল নিয়ে জুরাইজের উপাসনালয় আক্রমণ করল, তা গুঁড়িয়ে দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিল।
তারা জুরাইজের গলায় দড়ি বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনল এবং তাঁকে আঘাত করতে লাগল। জুরাইজ শান্তভাবে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কেন এমন করছ?’ তখন তারা তাঁকে সেই অপবাদের কথা বলল এবং সেই শিশুটিকে দেখিয়ে দিল। জুরাইজ তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারলেন যে, এটি হয়তো তাঁর মায়ের সেই বদদুআ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তাঁর ঈমান ছিল অটল।
The Lesson
তিনি বললেন, ‘আমাকে একটু সময় দাও, আমি নামাজ আদায় করব।’ তিনি সুন্দরভাবে ওজু করলেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করে আল্লাহর দরবারে সাহায্য চাইলেন। নামাজ শেষে তিনি সেই নবজাতক শিশুটির কাছে গেলেন এবং আল্লাহর কুদরতের ওপর ভরসা রেখে শিশুটির পেটে আঙুল দিয়ে একটি খোঁচা বা মৃদু আঘাত করে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে শিশু! বলো তোমার পিতা কে?’ তখনই এক অলৌকিক বা মুজিজাস্বরূপ ঘটনা ঘটল।
সেই দুগ্ধপোষ্য শিশুটি, যে সবেমাত্র জন্ম নিয়েছে, সে অত্যন্ত পরিষ্কার ও প্রাঞ্জল ভাষায় কথা বলে উঠল। সে সবার সামনে ঘোষণা করল, ‘আমার পিতা হলো অমুক মেষপালক।’ এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখে উপস্থিত জনতা স্তম্ভিত হয়ে গেল। তারা বুঝতে পারল যে জুরাইজ সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাঁরা এক বিশাল ভুল করেছেন।
তারা লজ্জিত হয়ে জুরাইজের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ল এবং ক্ষমা প্রার্থনা করল। তারা প্রস্তাব দিল, ‘হে জুরাইজ!
আমরা আপনার ঘরটি সোনা অথবা রুপা দিয়ে পুনরায় তৈরি করে দেব।’ দুনিয়াবিমুখ জুরাইজ হেসে বললেন, ‘না, আমার ঘরটি আগের মতো কাদা ও মাটি দিয়েই তৈরি করে দাও।’ গ্রামবাসী অতি দ্রুত তাঁর ঘরটি আগের মতো নির্মাণ করে দিল। এই কাহিনী থেকে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই। প্রথমত, মা-বাবার মর্যাদা ও অধিকার।
জুরাইজ নামাজে থাকলেও মা-বাবার ডাক শোনা এবং পরিস্থিতি বুঝে নামাজ সংক্ষিপ্ত করে তাঁদের ডাকে সাড়া দেওয়া অধিকতর শ্রেয় ছিল, কারণ নফল ইবাদতের চেয়ে মা-বাবার মর্যাদা অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। ইবনে কাসীর তাঁর বর্ণনায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। দ্বিতীয়ত, এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের বিপদে একা ছেড়ে দেন না।
যখন কেউ আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখে (তাওয়াক্কুল), তখন আল্লাহ এমন কুদরতি উপায়ে তাকে সাহায্য করেন যা মানুষের কল্পনার অতীত। তৃতীয়ত, সত্যকে সাময়িকভাবে ঢেকে রাখা সম্ভব হলেও তা একসময় আল্লাহর ইচ্ছায় প্রকাশিত হবেই। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের এই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাটি কিয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের জন্য সবর বা ধৈর্যের এক উজ্জ্বল আদর্শ হয়ে থাকবে।